Wednesday, April 1, 2020

Coronavirus (COVID-19) নিজেকে এবং অন্যকে সুরক্ষিত রাখার উপায়



আপনারা হয়তো অনেক হলিউডের মুভি দেখে থাকবেন। বিশেষ করে Zombie মুভি গুলো। আপনি হয়তো লক্ষ করে থাকবেন যে সেখানেও ভাইরাস মানুষকে বদলে ফেলে। আর মানুষ গুলো একে অন্যকে খাওয়া শুরু করে দেয়। আর এসব ঠেকাতে Lock Down করে দেওয়া হয়। যাতে এসকল ভাইরাস অন্যের সংস্পর্শে না আসতে পারে। 

কেন হলিউডের কথা বলছি জানেন কি ? এজন্যই বলছি মুভিতে এড়িয়া Lock Down করা হয় একদম খারাপ অবস্থায় পৌছালে। তবে আমার পয়েন্ট Zombie নয় বরং Lock Down. কারন এই Corona Virus এর প্রভাবে সারা বিশ্ব Lock Down করে দেওয়া হয়েছে। নিশ্চই তাহলে এটা একটি অপ্রতিরোধ যোগ্য রোগ তাই এমন টা করা হয়েছে। 

জি হ্যা এটি একটি মারাত্মক ভাইরাস। যার ফলে মারা যাচ্ছে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ। আর সবার মাঝে তৈরী করছে আতংক। আর সেই ভয় কে কেন্দ্র করে ব্যবসাও করে যাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। তাই সকল গুজব বাদ দিয়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক Corona Virus (COVID-19) নিয়ে আপনাদের জন্য আমার কিছু তথ্য।



Corona Virus মূলত স্তন্যপায়ী প্রানী এবং পাখিদের আক্রান্ত করে থাকে। COVID-19 মানুষের শ্বাস নালীতে সংক্রমন করে থাকে। আর যার ফলে সর্দি কাশির লক্ষন দেখা দেয় ক্ষানিকটা। তবে মুরগির ক্ষেত্রে এটা উর্ধ্ব শ্বাসনালী সংক্রমণ ঘটায়, আবার গরু ও শূকরের ডায়রিয়া সৃষ্টি করে থাকে। আর Corona Virus যদি মানুষকে আক্রমন করে, তবে বলতেই হচ্ছে এর টিকা বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ আজ পর্যন্ত আবিস্কৃত হয় নাই।

ইতিহাসঃ


করোনাভাইরাস ১৯৬০-এর দশকে প্রথম আবিষ্কৃত হয়।এই সংক্রামক মুরগির মধ্যে  ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস হিসেবে প্রথম দেখা যায়। সর্দি-হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের মাঝে এরকম দুই ধরনের ভাইরাস পাওয়া যায়। মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাস দুটি ‘মনুষ্য করোনাভাইরাস ২২৯ই’ এবং ‘মনুষ্য করোনাভাইরাস ওসি৪৩’ নাম রাখা হয়।

তবে সময়ের সাথে ভাইরাসটির আরো বেশ কিছু প্রজাতি পাওয়া যায় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০০৩ সালে ‘এসএআরএস-সিওভি’, ২০০৪ সালে ‘এইচসিওভি এনএল৬৩’, ২০০৫ সালে ‘এইচকেইউ১’, ২০১২ সালে ‘এমইআরএস-সিওভি’ এবং সর্বশেষ ২০১৯ সাল চীনে এসএআরএস-সিওভি-২’ পাওয়া যায়।

(যা বর্তমানে সবাই নোভেল করোনাভাইরাস নামেই জেনে থাকবেন। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ ভাইরাসের ফলে শ্বাসকষ্টের গুরুতর সংক্রমণ দেখা দেয়।)

সূত্রঃ Wikipedia Source.

Corona Virus (COVID-19) এর লক্ষণ

  • জ্বর
  • পেটের সমস্যা
  • মাথা ব্যাথা
  • অঙ্গ বিকল হওয়া
  • গলা ব্যাথা
  • শ্বাসকষ্ট
  • বমি হওয়া
  • শুষ্ক কাশি
  • অবসাদ
  • কিছু রোগীর ক্ষেত্রে উল্লেখিত সকল লক্ষন থাকলেও জ্বর থাকেনা।

কতটা ভয়ংকর এই Corona Virus?

শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য রোগের মতো এই Virus দ্বারা আক্রান্ত হলে সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং জ্বরের হালকা লক্ষণ দেখা দিতে পারে । বৃদ্ধ মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অর্গান হারানোর মতো সমস্যা হতে পারে। তবে খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ মারাত্মক হয়। 
সূত্রঃ Unicef

Corona Virus প্রতিরোধের উপায়ঃ

আপনি মুসলিম হলে হয়তো জানেন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। আর Corona Virus প্রতিরোধে আপনাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। অন্যের সংস্পর্শ থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে হবে। আর মাস্ক রোগ বিস্তার থেকে আপনাকে দূরে রাখবে। আপনি চাইলে হ্যান্ড গ্লাফস ব্যবহার করতে পারেন কারন Safety First. তবে সব থেকে বেশী জরুরী আপনার হাত সার্বক্ষনিক পরিস্কার রাখা। আর অবশ্যই নাকে মুখে হাত দেওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। পাশাপাশি আক্রান্ত হয়েছে এমন রোগীদের থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

Corona Virus এর ঝুকি?

যে কোন বয়সের মানুষই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে করোনা ভাইরাস শিশুদের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত ভয়াবহ রুপ ধারন করে নাই। তবে অসুস্থ বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস মারাত্মক হতে পারে যার ফলে প্রান হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। 

Unicef এর মতে

এই করোনাভাইরাসটি ভয়াবহ গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের উপর এই ভাইরাসের প্রভাব বা এতে কতজন আক্রান্ত হতে পারে- সে সম্পর্কে আমরা এখনও বেশি কিছু জানি না। কিন্তু নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধ এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। সময় আমাদের সাথে নেই।

          -ইউনিসেফ নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর –

Home Quarantine তাহলে কি করবেন?


অনেক কিছুই আছে সময় কাটানোর জন্য।
ঘরের সবাই মিলে মুভি দেখুন মনের কথা শেয়ার করুন হয়তো এরকম দিন আর আগামীতে আসবেনা।
যারা খেলাধুলা পছন্দ করেন তারা চাইলে পিসি থেকে কিংবা Android থেকে গেমস খেলে সময় কাটাতে পারেন আর অসংখ্য গেমস রয়েছে শুধু আপনার যা পছন্দ খুজে নিন।
যারা পড়াশুনা করতে ভালোবাসেন তারা অনলাইন কোর্স করা শুরু করেন।
যারা গল্প করতে ভালোবাসেন তারা গ্রুপ চাট কিংবা গ্রুপ কলিং করে সময় কাটাতে পারেন।
মোট কথা নিজে বাচুন অন্যকে বাচতে সহযোগিতা করুন।
কারন আপনার বোকামীর কারনে আক্রান্ত হতে পারে অন্য কেউ।
অনেক মহামারী এসেছে আর মানুষ তার মোকাবেলা করেছে তাই যতদিন করোনার কোন প্রতিষেধক না বের হচ্ছে নিজের জীবনকে ঝুকিতে ফেলার কোন প্রয়োজন নেই।
আর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে যদি মারা যান তাহলে।এমন হতে পারে যে আপনার জানাজায় পর্যন্ত কেউ আসবেনা। তাই আপনি কি চান এসময়ে মরে গিয়ে অবহেলায় ফেলতে নিজের মরদেহকে যা কিনা ঠিকমত কেউ মাটি দিতেও আসবেনা।
আপনি নিশ্চই বুদ্ধিমান একজন তাই বোকার মত কাজ করে দেশ ও দেশের মানুষ সহ নিজের পরিবারকে বিপদে ফেলতে চাইবেন না।
তাই আসুন আমরা সবাই মিলে নিয়ম গুলো মেনে চলি।নিজে সুস্থ থাকি অন্যকেও সুস্থ থাকতে দেই। 

সবশেষে

Corona Virus বর্তমানে মানুষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর বিশ্বের ১৫০+ দেশ এই ভাইরাসের স্বীকার। আর প্রতিদিন যেমন আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে ঠিক তেমনি মৃত্যুর হার টাও বাড়ছে। আর তাই সরকার আমার আপনার মত সবাইকে রোগ থেকে দূরে রাখতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। তাই আমাদের উচিৎ সকল নিয়ম গুলো মেনে চলা যাতে নিজেরা সুস্থ থাকতে পারি সাথে অন্যকেও সুস্থ থাকতে সাহায্য করতে পারি।

Share:

0 Comments:

Post a Comment

Copyright © Dipta.info | Powered by Blogger Design by Dipta Chowdhury | Blogger Theme by Dipta.info